দুবাইয়ে আবাসিক খাত

মোট ব্যয়ের প্রতি ২০০ দিরহামের এক দিরহাম পেয়েছে বুর্জ খলিফা

দুবাইয়ের আবাসন বাজারের বড় বিজ্ঞাপন বুর্জ খলিফা। গত ১৫ বছরে অঞ্চলটির আবাসিক সম্পত্তির বাজারে মালিকানা হস্তান্তরে প্রায় প্রতি ২০০ দিরহামে ১ দিরহাম পেয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনটি।

দুবাইয়ের আবাসন বাজারের বড় বিজ্ঞাপন বুর্জ খলিফা। গত ১৫ বছরে অঞ্চলটির আবাসিক সম্পত্তির বাজারে মালিকানা হস্তান্তরে প্রায় প্রতি ২০০ দিরহামে ১ দিরহাম পেয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনটি। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাবে, বুর্জ খলিফার আবাসিক লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। রিয়েল এস্টেট খাতের পরামর্শক নাইট ফ্র্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ওই ভবনে থাকা মূল্যবান সম্পত্তি ধরে রাখতে চাইছেন মালিকরা। এতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকট বেড়েছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

চলতি মাসে প্রতিষ্ঠার ১৫তম বার্ষিকী উদযাপন করছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইকনিক ভবনটি। গত বছর এ বুর্জ খলিফায় ১১৬টি লেনদেন হয়েছে, এ বিক্রির ৯৮টি নন-ব্র্যান্ড আবাসিক ইউনিট ও ১৮টি ব্র্যান্ডেড রেসিডেন্স। ২০২৩ সালে লেনদেন হয়েছিল ১১৭টি।

গত বছর সম্পত্তি স্থানান্তর বাবদ এ ভবনে অর্থের লেনদেন হয়েছে ৪৬ কোটি ৭১ লাখ আমিরাতি দিরহাম, যা ২০২৩ সালের ৪৯ কোটি ৫২ লাখ দিরহামের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম। লেনদেন কমার প্রধান কারণ হলো চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ২৭ শতাংশ কমে যাওয়া।

নাইট ফ্র্যাংকের এক প্রতিনিধি বলেন, ‘ক্রয়ের জন্য সম্পত্তির অভাব মূলত সামগ্রিক মূল্যকে প্রভাবিত করছে। চাহিদা বিবেচনায় কম সম্পত্তি থাকায় লেনদেনের মোট পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই কম।’

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় আবাসন ইউনিটের এ হ্রাস দুবাইয়ের বিলাসবহুল সম্পত্তি বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা প্রতিফলিত করে। অর্থাৎ এ খাতে আরো বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া ১২ মাসে দুবাইয়ে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে ১ কোটি ডলার বা তার বেশি মূল্যের বাড়ির হ্রাস আরো বেশি, ৬৫ শতাংশ।

নাইট ফ্র্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, বাড়ির সংকট শহরজুড়ে আবাসনের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেভেলপারদের দ্রুত আরো প্রকল্প বাজারে আনতে উৎসাহিত করছে।

২০২৪ সালের শেষ দিকে বুর্জ খলিফার প্রতি বর্গফুটের গড় মূল্য ছিল ৩ হাজার দিরহাম, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময় দুবাইয়ের সামগ্রিক আবাসিক সম্পত্তির মূল্য বেড়েছে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ গড়ের তুলনায় দাম কম বেড়েছে বুর্জ খলিফায়।

নাইট ফ্র্যাংকের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের অংশীদার ও গবেষণা প্রধান ফয়সাল দুরানি বলেন, ‘বুর্জ খলিফার ১৫ বছরের রাজত্ব এমন এক সময় এসেছে, যখন দুবাইয়ের আবাসিক সম্পত্তির বাজার রেকর্ড চাহিদা ও প্রবৃদ্ধি দেখছে।’

২০২৪ সালে ভবনটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল লেনদেন ছিল একটি পাঁচ বেডরুমের ব্র্যান্ডেড রেসিডেন্সের বিক্রি বাবদ। ওই অ্যাপার্টমেন্টটি ৪ কোটি ৪০ লাখ দিরহাম দাম পেয়েছে। এর প্রতি বর্গফুটের দাম দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯৮৭ দিরহাম।

দুবাইয়ের আবাসন বাজারের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বুর্জ খলিফার বাজার হিস্যা কমে আসছে। ২০১১ সালে এ বাজারে ভবনটির অবদান ছিল ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা গত বছর কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক ১১ শতাংশে।

সর্বোচ্চ আয়ের একক আবাসিক ভবন হিসেবে এখনো শীর্ষে বুর্জ খলিফা। ২০১০ সালে উদ্বোধনের পর থেকে আবাসন বিক্রি বাবদ মোট ৮৮০ কোটি দিরহাম আয় করেছে, এ অংক দ্বিতীয় স্থানে থাকা আটলান্টিস দ্য রয়ালের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেশি। এ হোটেল রিসোর্টটি আয় করেছে ৬২০ কোটি দিরহাম।

ফয়সাল দুরানি বলেন, ‘বুর্জ খলিফা শুধু একটি ল্যান্ডমার্ক নয়, এটি দুবাইয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সফলতার চিহ্ন। বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট খাতে ভবনটি দুবাইয়ের অসাধারণ প্রবৃদ্ধির প্রতিচ্ছবি। গত ১৫ বছরে দুবাইয়ের আবাসিক সম্পত্তিতে প্রতি ২০০ দিরহামের মধ্যে ১ দিরহাম বুর্জ খলিফার মালিকানার জন্য ব্যয় হয়েছে।’

আরও